সিবিআই নয় মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন
মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ডে অবশেষে সিবিআই নয়, তদন্তের দায়িত্ব পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, মালদহের সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এনআইএ-কেই এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। এর আগে জল্পনা ছিল যে কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমিশন এনআইএ-র ওপরই আস্থা প্রকাশ করল।
শীর্ষ আদালতের কড়া নির্দেশের পর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার থেকে মালদহের মোথাবাড়ি এলাকা এসআইআর-এর নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়েন বিচারক ও জুডিশিয়াল অফিসাররা। এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ ডিজি এবং মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে শোকজের নির্দেশ দিয়েছে। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনতে শুক্রবার অর্থাৎ ৩ এপ্রিলই এনআইএ-র একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসে পৌঁছবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেখান থেকে তাঁরা সরাসরি মালদহের মোথাবাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করবেন। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে এনআইএ-কে ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে পেশ করতে হবে। ওই দিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে এনআইএ-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোথাবাড়ি কাণ্ডে পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি কাদরী। বুধবার স্থানীয় বাসিন্দারা পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সংস্থার আগমনে তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
এদিকে ভোট আবহে মালদহের এই উত্তেজনা নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। মুর্শিদাবাদের সভা সেরে বৃহস্পতিবারই মালদহ পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈষ্ণবনগরের সভায় তিনি এই অশান্তির জন্য সরাসরি কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের মনে ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়। যারা এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তৃণমূল সুপ্রিমো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের কোনো সংঘাতের পরিকল্পনা নেই এবং তাঁরা শান্তিতে আইনি লড়াই লড়তে বিশ্বাসী। তাঁর মতে, কোনো ধরনের দাঙ্গা বা অশান্তিকে প্রশ্রয় দেবে না রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে এনআইএ তদন্ত শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো জেলা। কেন্দ্রীয় সংস্থা আসার আগে মোথাবাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।