সি ভি আনন্দ বোসকে কি জোর করে সরানো হলো, প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মমতার বিস্ফোরক দাবি

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ ঘিরে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। আলিপুরে বোসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, আনন্দ বোস স্বেচ্ছায় পদ ছাড়েননি বরং তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সি ভি আনন্দ বোস রাষ্ট্রপতির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং তার জন্য বাগডোগরার বিমানের টিকিটও কাটা হয়েছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে তলব করা হয় এবং সেখানেই তাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ তোলেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টি রাজভবনকে তাদের নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, কিন্তু আনন্দ বোস তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিল্লি সফর চলাকালীনই সি ভি আনন্দ বোস রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র তিন বছরের মাথায় তার এই বিদায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আনন্দ বোসের পদত্যাগের পর আর এন রবিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আনন্দ বোসের এই আকস্মিক পদত্যাগের নেপথ্যে ভিন্ন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। গত দুই বছরে তার বিরুদ্ধে এক রাজভবন কর্মী এবং এক ওডিশি নৃত্যশিল্পীর আনা যৌন হয়রানির দুটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছিল। এছাড়া বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গেও তার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি অতিথিশালায় আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পদত্যাগ নিয়ে তোলা অভিযোগ আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল।