সূক্ষ্ম দূষণ-কণার দাপটে বাড়ছে ডিমেনশিয়া ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকি

বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও চরম অবনতি ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের বিষাক্ত গ্যাস ও প্লাস্টিক দূষণ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, যা সরাসরি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বাতাসের এই বিষাক্ত রাসায়নিক কণাগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করছে। এর ফলে স্কিৎজোফ্রেনিয়া, দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন এবং স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নাইট্রিক অক্সাইড ও কার্বন কণা রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীনতার পথ প্রশস্ত করছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দূষিত আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় কাটালে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও থমকে যেতে পারে। গত কয়েক দশকে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ায় আগামী দিনে আরও জটিল স্নায়বিক রোগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মানবসভ্যতা এক ভয়ঙ্কর মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।