সূর্যরশ্মিই কি দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি? পরিমিত রোদে সুস্থ থাকবে শরীর ও মন

চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের সাবধানবাণী ছাপিয়ে আধুনিক গবেষণায় উঠে এসেছে সূর্যের আলোর অভাবনীয় উপকারিতা। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত রোদ যেমন ক্ষতিকর, রোদহীন জীবনও তেমনই ঝুঁকিপূর্ণ। সূর্যের আলো ত্বকের সংস্পর্শে এলে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; এক্ষেত্রে সরাসরি সূর্যালোক অপরিহার্য। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রদাহ কমায়। এছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি রক্তে ‘সেরোটোনিন’ হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে মানসিক অবসাদ কাটাতে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে ৩টের কড়া রোদ এড়িয়ে সকাল ৮টা থেকে ১০টার নরম রোদ গায়ে মাখা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। বাঙালির ত্বকের মেলানিন প্রাকৃতিকভাবেই সূর্যের তেজ থেকে সুরক্ষা দেয়, তাই পরিমিত রোদে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সঠিক সময়ে এবং সঠিক মাত্রায় সূর্যরশ্মি গ্রহণই হতে পারে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।