সেনা ছাউনিতে নজরদারি! সোলার ক্যামেরায় পাকিস্তানে যাচ্ছিল লাইভ ফুটেজ, পুলিশের জালে ১১ জন

দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক ও গোয়েন্দাগিরির জাল বিছিয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বব্ববর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (বিকেআই)। তবে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তৎপরতায় সেই ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে। দিল্লি ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই মডিউলের সঙ্গে জড়িত ১১ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি ও চরকে গ্রেফতার করেছে। এই চক্রটি মূলত ভারতের স্পর্শকাতর সামরিক এলাকাগুলোতে সোলার চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে সরাসরি পাকিস্তানে তথ্য পাচার করছিল।
গোয়েন্দা তৎপরতার নতুন কৌশল: সোলার ক্যামেরা ও লাইভ ফিড
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি অত্যন্ত উন্নত ও কৌশলী পদ্ধতি ব্যবহার করছিল। উত্তর ভারতের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে তারা সোলার পাওয়ারের মাধ্যমে চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল। এই ক্যামেরাগুলোতে থাকা সিম কার্ডের মাধ্যমে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি পাকিস্তান সীমান্ত পার করে লাইভ ফুটেজ পাঠানো হতো। মূলত সেনা ও আধা-সামরিক বাহিনীর গতিবিধি, ক্যাম্পের অবস্থান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজর রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
গ্রেফতারি ও অভিযানের বিস্তারিত
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল দুটি পৃথক অপারেশনের মাধ্যমে এই সাফল্যের মুখ দেখেছে।
- প্রথম অপারেশন: নর্দান রেঞ্জ টিম ২৯ মার্চ পাঞ্জাবের তারনতারন, ফিরোজপুর এবং দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করে। এদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, কার্তুজ এবং জাল পরিচয়পত্রে নেওয়া সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
- দ্বিতীয় অপারেশন: সাউথ ওয়েস্ট রেঞ্জ টিম মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের তথ্যের ভিত্তিতে পাঞ্জাব থেকে আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এই দলটি সরাসরি বিএসএফ ও সেনা ক্যাম্পের রেকি করার কাজে নিয়োজিত ছিল।
পাচারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শহরগুলো
তদন্তকারী দল এখন পর্যন্ত ৯টি সোলার ক্যামেরা উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তরা মূলত নিচের শহরগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল:
- পাঞ্জাব: কাপুরথালা, জলন্ধর, পাঠানকোট, পাতিয়ালা, মোগা।
- হরিয়ানা: আম্বালা।
- রাজস্থান: বিকানের, আলওয়ার।
- জম্মু-কাশ্মীর: কাঠুয়া।
অস্ত্র পাচার ও নাশকতার পরিকল্পনা
শুধুমাত্র নজরদারি নয়, এই মডিউলটি ভারতের মাটিতে বড় ধরনের গ্রেনেড হামলা ও সশস্ত্র নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ধৃতদের কাছ থেকে ৪টি পিস্তল, ২৪টি কার্তুজ, ২৪টি মোবাইল ফোন এবং অস্ত্র পাচারে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল ডেটা, ছবি এবং সামরিক স্থাপনার লোকেশন ম্যাপ পাওয়া গেছে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সীমান্তপার শত্রুরা এখন কেবল প্রথাগত অস্ত্র নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ফাটল ধরাতে চাইছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা রেললাইনের পাশে সোলার ক্যামেরা বসিয়ে রাখা সাধারণ মানুষের চোখে খুব একটা সন্দেহ তৈরি করে না, আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছিল আইএসআই। দিল্লি ও পাঞ্জাব পুলিশের এই যৌথ প্রতিরোধ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একঝলকে
- আটক: আইএসআই ও বিকেআই সংশ্লিষ্ট ১১ জন সন্দেহভাজন।
- এলাকা: দিল্লি ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন স্থানে অভিযান।
- জব্দকৃত সরঞ্জাম: ৯টি সোলার সিসিটিভি ক্যামেরা, ৪টি পিস্তল, ২৪টি কার্তুজ ও ২৪টি মোবাইল।
- লক্ষ্যবস্তু: সেনা ছাউনি, বিএসএফ ক্যাম্প ও গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে ট্র্যাক।
- প্রযুক্তি: মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানে সরাসরি ভিডিও প্রচার।
- হামলার পরিকল্পনা: নজরদারির পাশাপাশি গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র ছিল।