সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ক্রীড়ামন্ত্রী থাকলে যুবভারতী কাণ্ড ঘটত না, দাবি লিয়েন্ডার পেজের

সদ্য ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েই কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে সরব হলেন কিংবদন্তি টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও অলিম্পিক পদকজয়ী এই তারকার মতে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কোনো ব্যক্তিত্ব ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলে বিশ্বফুটবলের মহাতারকাদের এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে লিয়েন্ডার প্রশ্ন তোলেন, কেন পশ্চিমবঙ্গকে এভাবে বারবার আসাম্মানিত হতে হবে।
গত ১২ ডিসেম্বর ‘গোট ট্যুর অফ ইন্ডিয়া’ উপলক্ষে কলকাতায় পা রেখেছিলেন লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুবভারতীতে দেড় ঘণ্টা থাকার কথা থাকলেও, স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিআইপি, মন্ত্রী এবং তাঁদের অনুগামীদের মাত্রাতিরিক্ত ভিড় ও অব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চরম অস্বস্তিতে পড়ে মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বিশ্বজয়ী ফুটবলাররা। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কাটা ফুটবলপ্রেমীরা প্রিয় তারকাকে দেখতে না পেয়ে স্টেডিয়াম জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও তাণ্ডব চালান।
লিয়েন্ডার পেজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমার খুব দুঃখ হয়। সৌরভদা কিংবা স্নেহাশিসদার মতো কোনো খেলোয়াড় যদি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী হতেন, তবে এমন বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগই থাকত না।” উল্লেখ্য, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেও সেদিনের অরাজকতা দেখে মেসিকে মাঠে কিছুক্ষণ থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। যুবভারতীর এই ঘটনাকে ক্রীড়া বিশ্বের কাছে রাজ্যের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন লিয়েন্ডার।
রাজনৈতিক মহলে লিয়েন্ডার পেজের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেও, এবার শিবির বদলে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন তিনি। টেনিস কোর্টের পর রাজনীতির ময়দানে লিয়েন্ডারের এই নতুন ইনিংস এবং শাসকদলের সমালোচনা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।