স্পিকারের চেয়ারে ওম বিড়লা বসলে সংসদ থেকে মর্যাদা বেরিয়ে যায়, মহুয়ার তোপ

স্পিকারের চেয়ারে ওম বিড়লা বসলে সংসদ থেকে মর্যাদা বেরিয়ে যায়, মহুয়ার তোপ

লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিতর্কে অংশ নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভায় চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নিজের পুরনো বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মহুয়া দাবি করেন, কর্মফলের কারণেই আজ স্পিকারকে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

বক্তৃতার শুরুতেই মহুয়া মৈত্র বলেন, “এ যেন ঈশ্বরের বিচার। যে চেয়ার আমাকে বহিষ্কার করেছিল, আজ সেই চেয়ারের বিরুদ্ধেই আমি অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা শুরু করছি।” তাঁর অভিযোগ, তাঁকে অন্যায়ভাবে ‘উইচ-হান্ট’ করা হয়েছিল এবং এথিক্স কমিটির তাঁকে বহিষ্কার করার কোনো এক্তিয়ার ছিল না। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁকে সংসদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। কৃষ্ণনগর থেকে পুনরায় জয়ী হয়ে ফিরে আসা মহুয়া এদিন স্পষ্ট জানান যে কর্মফল থেকে কেউ পালাতে পারে না।

স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মহুয়া বলেন, লোকসভায় বিরোধী দলের সাংসদদের বলতে দেওয়া হয় না এবং বারবার তাঁদের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি সংসদ টিভিতেও বিরোধীদের বক্তব্য ঠিকমতো দেখানো হয় না। স্পিকারকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “স্পিকার বারবার সংসদের মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে স্পিকার সংসদে ঢুকলেই মর্যাদা যেন বেরিয়ে যায়।”

মণিপুর ইস্যু এবং বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুড়ির বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রসঙ্গও মহুয়ার বক্তৃতায় উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে পর্যন্ত মণিপুর নিয়ে আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া অন্য সাংসদকে সাম্প্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ করার পরেও বিধুড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন তিনি।

সংসদীয় গণতন্ত্রকে ‘সার্কাস’-এর সঙ্গে তুলনা করে মহুয়া মৈত্র বলেন, স্পিকার যদি সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করেন, তবে তা দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। বক্তব্যের শেষে ব্রিটিশ নেতা অলিভার ক্রমওয়েল-এর উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি সরাসরি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা অনেক দিন ধরে এখানে বসে আছেন। ঈশ্বরের নামে বলছি—এবার বিদায় নিন।” যদিও সংখ্যার বিচারে ওম বিড়লাকে সরানো সম্ভব নয়, তবুও এই বিতর্ক সংসদের গণতান্ত্রিক প্রথা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *