স্পিকার ওম বিড়লাকে হটাতে লোকসভায় মহুয়া মৈত্রের বিস্ফোরক মেজাজ এবং অলিভার ক্রমওয়েল উদ্ধৃত করে বিদায় নেওয়ার আহ্বান

লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিতর্কে অংশ নিয়ে মঙ্গলবার সংসদের ভেতরেই পুরনো ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এদিন কংগ্রেসের আনা এই প্রস্তাবের সমর্থনে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহুয়া বলেন, যে চেয়ার একসময় তাঁকে বহিষ্কার করেছিল, আজ সেই চেয়ারের বিরুদ্ধেই তিনি অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা শুরু করছেন। বিষয়টিকে তিনি ‘ঈশ্বরের বিচার’ এবং ‘কর্মফল’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তৃতার শুরুতেই কৃষ্ণনগরের সাংসদ অভিযোগ করেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে ‘উইচ-হান্ট’ করা হয়েছিল এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের নূন্যতম সুযোগ না দিয়েই এথিক্স কমিটি তাঁকে বহিষ্কার করেছিল। তবে পুনরায় জিতে আসার পর এদিন সুযোগ পেয়েই তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন। স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, ওম বিড়লা বিরোধী সাংসদদের কথা বলতে দেন না এবং বারবার তাঁদের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি সংসদ টিভিতেও বিরোধীদের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি সরব হন।
মণিপুর ইস্যু এবং বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুড়ির বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রকে একপ্রকার সার্কাসে পরিণত করা হয়েছে। তাঁর মতে, স্পিকার যদি সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বক্তৃতার শেষে ব্রিটিশ নেতা অলিভার ক্রমওয়েল-এর বিখ্যাত উক্তি ব্যবহার করে তিনি সরাসরি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ঈশ্বরের দোহাই, এবার বিদায় নিন।”
যদিও লোকসভায় শাসক দলের সংখ্যাধিক্যের কারণে এই অনাস্থা প্রস্তাবে ওম বিড়লার পদ হারানোর সম্ভাবনা নেই, তবে মহুয়া মৈত্রের এই ঝাঁঝালো ভাষণ সংসদের কার্যপ্রণালী এবং বিরোধীদের বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তর্কের জন্ম দিয়েছে।