স্পিকার ছাড়াই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে এবারের উদ্বোধনী অধিবেশনটি হতে যাচ্ছে নজিরবিহীন, কারণ দীর্ঘ সময় পর স্পিকারের শূন্য চেয়ার নিয়েই শুরু হবে সংসদীয় কার্যক্রম। বিগত সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় এই সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ নেতা তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেবেন। তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য একজন সিনিয়র সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। সেই অস্থায়ী সভাপতির অধীনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই অধিবেশনকে জাতীয় জীবনের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সংসদ নেতার আহ্বানে বিধি মোতাবেক একজন সদস্যের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু হবে। সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর সংসদ নেতা সভাপতির নাম প্রস্তাব করবেন এবং অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করবেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন পুনরায় শুরু হবে। প্রথম দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অধ্যাদেশগুলো যাচাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের সংসদ বেশ কিছু কারণে ব্যতিক্রমী। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় ৭৬ শতাংশই নতুন মুখ। এছাড়া ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব থাকলেও জামায়াতে ইসলামী আপাতত সেই দায়িত্ব নিতে রাজী হয়নি। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, জুলাই সনদের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আগে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। ফলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু করছে এই সংসদ।