স্বামীর আয় বিচার্য নয় কেবল বাবার উপার্জনেই মিলবে সুবিধা, ওবিসি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের

ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় থাকা মহিলাদের ক্রিমি লেয়ার বা নন-ক্রিমি লেয়ারের স্থিতি নির্ধারণ নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের গোয়ালিয়র বেঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, কোনও মহিলা প্রার্থীর ওবিসি মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁর স্বামীর আয়কে কোনোভাবেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংরক্ষিত শ্রেণির চাকরিপ্রার্থী এবং ছাত্রীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির পথ প্রশস্ত হল।
এতদিন বিবাহিত মহিলাদের ওবিসি শংসাপত্র ও সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর বার্ষিক আয় একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তবে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্রিমি লেয়ারের মানদণ্ড নির্ধারণে প্রার্থী বিবাহিত হোন বা অবিবাহিত, শুধুমাত্র তাঁর বাবা-মায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাই বিবেচনা করা উচিত। প্রার্থীর নিজস্ব উপার্জন বা তাঁর স্বামীর সম্পত্তি এই হিসাবের আওতাভুক্ত হবে না।
বিচারপতিদের মতে, ওবিসি সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হলো সংশ্লিষ্ট পরিবারের সামাজিক অনগ্রসরতা। যেহেতু একজন মহিলার জন্মগত পরিচয় তাঁর পিতা-মাতার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাই বিয়ের পর তাঁর পারিবারিক আয়ের উৎস হিসেবে স্বামীর আয়কে যুক্ত করা আইনত সংগত নয়। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী কিছু নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই আদালত এই রায় দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে ওবিসি সমাজের বহু যোগ্য মহিলা প্রার্থী এখন থেকে আরও সহজে নন-ক্রিমি লেয়ার শংসাপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষ করে যে সকল মহিলার স্বামী উচ্চপদস্থ চাকুরিজীবী বা উচ্চবিত্ত, তাঁরাও এখন থেকে তাঁদের পৈতৃক পরিচয়ে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করতে পারবেন। এটি মহিলাদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষায় বিশেষ সহায়ক হবে।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ রায় সারা দেশে ওবিসি সংরক্ষণের নিয়মনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত অনগ্রসর প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওবিসি মহিলাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর হবে এবং তাঁরা পৈতৃক আর্থ-সামাজিক স্থিতির ভিত্তিতেই নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।