স্বামীর মৃত্যুর পরও শ্বশুরের থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে বিধবা পুত্রবধূর

হিন্দু আইন অনুযায়ী স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভরণপোষণের প্রাথমিক দায়িত্ব কেবল জীবনকালেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্বামীর মৃত্যুর পরও সেই দায়বদ্ধতা বজায় থাকে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, একজন বিধবা পুত্রবধূ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার শ্বশুরের কাছ থেকে ভরণপোষণ বা খোরপোশ দাবি করার আইনি অধিকারী। বিচারপতি অরিন্দম সিনহা এবং বিচারপতি সত্যবীর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর দেখভালের দায়িত্ব স্বামীর ওপর বর্তায়। স্বামীর অবর্তমানে সেই দায়বদ্ধতা শেষ হয়ে যায় না, বরং তা পরিবারের সম্পত্তিতে স্থানান্তরিত হয়। কোনো নারী যদি স্বামীহারা হওয়ার পর নিজের বা বাবার বাড়ির সম্পত্তি থেকে আত্মনির্ভর হতে না পারেন, তবে তিনি শ্বশুরবাড়ির কাছে সাহায্যের আবেদন জানাতে পারেন। এটি মূলত অসহায় অবস্থায় পড়া নারীদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি আইনি পদক্ষেপ।
হিন্দু দত্তক ও ভরণপোষণ আইন (HAMA)-এর আওতায় এই অধিকার সক্রিয় হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্তের কথা জানিয়েছে আদালত। যদি মৃত স্বামীর নিজস্ব কোনো সম্পত্তি না থাকে অথবা বাবার বাড়ি বা সন্তানদের পক্ষ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে, তবেই পুত্রবধূ শ্বশুরের শরণাপন্ন হতে পারবেন। এক্ষেত্রে শ্বশুরকে অবশ্যই পৈতৃক বা যৌথ পরিবারের সম্পত্তি থেকে এই অর্থ প্রদান করতে হবে।
তবে আইন অনুযায়ী এই অধিকার নিরঙ্কুশ নয়। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, যদি শ্বশুরের কাছে কোনো পৈতৃক সম্পত্তি না থাকে বা তার আর্থিক সামর্থ্য না থাকে, তবে তাকে বাধ্য করা যাবে না। এছাড়া, যদি পুত্রবধূ পৈতৃক সম্পত্তিতে ইতিমধ্যে তার প্রাপ্য অংশ পেয়ে থাকেন, তবে তিনি আলাদা করে ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন না।
সবশেষে আইনের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে আদালত জানায়, এটি একটি সাময়িক সুরক্ষা ব্যবস্থা। যদি সংশ্লিষ্ট নারী পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তবে শ্বশুরের থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার আইনি দাবিটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এই রায়ের মাধ্যমে মূলত বিধবা নারীদের মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার আইনি অধিকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।