স্বামীর মৃত্যুর পর খোরপোশ দেবে শ্বশুর, যুগান্তকারী রায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের

স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব কেবল স্বামীর জীবিত থাকাকালীন নয়, বরং মৃত্যুর পরেও বজায় থাকে বলে পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। একটি খোরপোশ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বামীর অবর্তমানে সদ্য বিধবা স্ত্রী তাঁর শ্বশুরের কাছ থেকে আইনত খোরপোশ বা ভরণপোষণের অর্থ দাবি করতে পারেন। বিচারপতি অরিন্দম সাহা এবং বিচারপতি সত্যবীর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে দাম্পত্য অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।
মূলত পারিবারিক আদালতে চলা একটি মামলার সূত্র ধরে এই আইনি লড়াই শুরু হয়। আবেদনকারী স্বামী দাবি করেছিলেন যে, তাঁর স্ত্রী খোরপোশ পাওয়ার জন্য আদালতে ভুল তথ্য দিয়েছেন। স্বামীর অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রী চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে গৃহবধূ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং বাপের বাড়ি থেকে পাওয়া প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট তাঁর নামে রয়েছে। এই যুক্তিতে তিনি খোরপোশ দেওয়ার বিরোধিতা করে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।
পারিবারিক আদালত স্বামীর সেই আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। উচ্চ আদালত মামলাটি পর্যালোচনা করে দেখে যে, স্ত্রীর আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে স্বামী যেসব অভিযোগ তুলেছেন, তার স্বপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ বা নথি পেশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের কোনো সারবত্তা খুঁজে পায়নি আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত জানায়, স্বামীহারা স্ত্রী তাঁর শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামাজিক ও আইনি কাঠামোর আওতায় স্ত্রীকে সুরক্ষিত রাখাই মূল উদ্দেশ্য। স্বামীর মৃত্যুর পর একজন নারী যাতে অসহায় বোধ না করেন, সেই কারণে খোরপোশ প্রদানের দায়বদ্ধতা পরিবারের ওপর বর্তায়। এলাহাবাদ হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে সমজাতীয় মামলায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই রায়ের ফলে খোরপোশ মামলায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি নারীর আইনি অধিকার আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।