স্বামী জীবিত থাকতে কেন ভরণপোষণ দেবেন না বিধবা পুত্রবধূর অধিকার টেনে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

স্বামী জীবিত থাকতে কেন ভরণপোষণ দেবেন না বিধবা পুত্রবধূর অধিকার টেনে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

হিন্দু দত্তক ও ভরণপোষণ আইন (HAMA) অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর একজন বিধবা নারী তাঁর শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন। সম্প্রতি একটি পারিবারিক বিবাদ সংক্রান্ত মামলায় এই প্রসঙ্গটিই জোরালোভাবে উল্লেখ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বামীর অবর্তমানেও যেখানে স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার বজায় থাকে, সেখানে জীবিত অবস্থায় একজন স্বামী কোনোভাবেই তাঁর স্ত্রীর দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

উত্তরাখণ্ডের এক দম্পতিকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল। স্ত্রী নিজের ভরণপোষণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হলে স্বামী পালটা অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী পেশায় একজন চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে গৃহবধূ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করছেন। স্বামীর দাবি ছিল, স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে এবং তথ্য গোপন করার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে স্ত্রী জানান, ওই টাকা তাঁর বাবা দিয়েছিলেন এবং বর্তমানে তার অধিকাংশ খরচ হয়ে গিয়েছে।

বিচারপতি অরিন্দম সিনহা ও বিচারপতি সত্যবীর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার পর্যালোচনায় জানায়, অভিযোগ করলেও স্বামী তাঁর স্ত্রীর কর্মসংস্থান বা নিয়মিত আয়ের কোনো পোক্ত প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, কোনো তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন না করা আর মিথ্যে তথ্য দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সম্পত্তি বা আয়ের পূর্ণ বিবরণ না দেওয়াকে ‘পারজুরি’ বা আদালতে মিথ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার সমান বলে গণ্য করা যায় না।

শেষমেশ স্বামীর দায়ের করা পিটিশন খারিজ করে আদালত স্মরণ করিয়ে দেয় যে, হিন্দু আইনের ১৯ নম্বর ধারা মোতাবেক একজন বিধবা পুত্রবধূও তাঁর শ্বশুরের কাছে খোরপোশ দাবি করতে পারেন। সেই নৈতিক ও আইনি জায়গা থেকে বিচার করলে, একজন সক্ষম স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে বাধ্য এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সেই দায়িত্ব অস্বীকার করা আইনত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *