স্মার্টফোনের চেয়েও দুর্বল কম্পিউটারে হয়েছিল চন্দ্রবিজয়, কেন আজ তবে চাঁদ ছুঁতে দেরি?

১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদে পা রাখেন, সেই সময়ের কম্পিউটারের তুলনায় আজকের সাধারণ স্মার্টফোনও অনেক বেশি শক্তিশালী। তবুও নাসা-র ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন এখনই চাঁদের মাটিতে নামছেন না। তাঁরা কেবল চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি ল্যান্ডিংয়ের ঝুঁকি না নিয়ে মূলত ওরিয়ন মহাকাশযানের নিরাপত্তা এবং গভীর মহাকাশে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য।
চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ল্যান্ডার এবং আধুনিক স্পেসসুট তৈরিতে বিলম্ব হওয়ায় এই মিশনটি পিছিয়েছে। নাসা বর্তমানে এলন মাস্কের স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। ফলে মহাকাশচারীদের চাঁদের মাটিতে পা রাখার ঘটনাটি ২০২৮ সালের ‘আর্টেমিস-৪’ মিশন পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। এই মিশনের মাধ্যমে নাসা চাঁদের সেই অন্ধকার দিকটিও পর্যবেক্ষণ করবে, যা পৃথিবী থেকে সাধারণত অগোচরেই থেকে যায়।
বর্তমান চন্দ্রাভিযান কেবল পতাকা ওড়ানোর লড়াই নয়, বরং চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে থাকা খনিজ সম্পদ ও বরফের ওপর আধিপত্য বিস্তারের এক নতুন প্রতিযোগিতা। আমেরিকা ও চীন উভয়েই এই অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মানবজাতির মঙ্গল গ্রহে পৌঁছানোর পথকে সুগম করবে। রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াই এখন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।