স্মার্টফোন আসক্তিতেই বাড়ছে ঘাড় ও পিঠের তীব্র যন্ত্রণা তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় বিপদ

স্মার্টফোন এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এটি অকালেই শরীরকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ভারত ও বাংলাদেশের ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, স্মার্টফোন আসক্তির কারণে সিংহভাগ তরুণই মারাত্মক ‘মাসকিউলার স্কেলেটাল পেইন’ বা পেশীর ব্যথায় ভুগছেন। তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৬৯.২ শতাংশ শিক্ষার্থী চরমভাবে মোবাইল আসক্ত, যার ফলে তাদের ঘাড়, কাঁধ এবং হাতে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার প্রধান কারণ হলো দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহারের ভুল ভঙ্গি বা ‘রং পোশ্চার’। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৩.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘাড়ের সমস্যায় এবং ৪২.৯ শতাংশ কাঁধের অসহ্য ব্যথায় আক্রান্ত। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রল করার ফলে মেরুদণ্ড ও মাথায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টেক্সট নেক’ সিনড্রোমের মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। এমনকি হাতের বুড়ো আঙুলের অতিরিক্ত ব্যবহারও হাড়ের সংযোগস্থলে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
ভবিষ্যতে স্থায়ী পঙ্গুত্ব এড়াতে গবেষকরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। ফোন ব্যবহারের সময় সেটি সবসময় চোখের সমান উচ্চতায় রাখা উচিত এবং মাথা সোজা রাখার অভ্যাস করতে হবে। এছাড়া চোখের ক্লান্তি ও পেশীর চাপ কমাতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ফোন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। এই ছোটখাটো অভ্যাসগুলো পরিবর্তন না করলে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।