স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, চিকিৎসকদের কড়া সতর্কতা

আধুনিক জীবনযাত্রায় স্মার্ট ওয়াচ অপরিহার্য হয়ে উঠলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা। কবজিতে চব্বিশ ঘণ্টা আটকে থাকা এই গ্যাজেট থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল সরাসরি শরীরের টিস্যুতে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় এই ইলেকট্রনিক যন্ত্রটি ত্বকের সংস্পর্শে থাকলে মানবশরীরে এর নেতিবাচক প্রভাব স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময়ও এটি পরে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্মার্ট ওয়াচের সিন্থেটিক রাবার বা ‘ফ্লুয়োরোলাস্টোমার’ স্ট্র্যাপ থেকে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ বা পিএফএএস (PFAS) শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ঘাম বা আর্দ্রতার মাধ্যমে এই ক্ষতিকারক রাসায়নিক ত্বকের গভীরে পৌঁছে লিভার, কিডনি এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করার আশঙ্কা তৈরি করে। সাধারণ লেদার বা মেটাল স্ট্র্যাপের তুলনায় এই বিশেষ ইলাস্টিক উপাদানটি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে গবেষকরা দাবি করছেন।
শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি স্মার্ট ওয়াচ মানসিক উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। সারাক্ষণ নোটিফিকেশন চেক করা, হার্ট রেট মনিটর বা স্টেপ কাউন্টারের দিকে নজর রাখা মানুষকে মানসিকভাবে পরিশ্রান্ত করে তোলে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কেবল প্রয়োজনের সময়টুকু স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহার করা উচিত। সুস্থ থাকতে রাতে শোবার আগে ঘড়ি খুলে রাখা এবং মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে মাঝে মাঝে অ্যানালগ ঘড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করা জরুরি।