স্মৃতিশক্তি রক্ষায় সচেতনতা: ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ ও যত্নে জরুরি পারিবারিক সহায়তা

স্মৃতিশক্তি রক্ষায় সচেতনতা: ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ ও যত্নে জরুরি পারিবারিক সহায়তা

ডিমেনশিয়া কেবল বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ নয়, বরং একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা যা মানুষের স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ক্রমান্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভারতে বর্তমানে প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত, যার প্রধান লক্ষণ হিসেবে মেজাজ পরিবর্তন ও দৈনন্দিন কাজে অক্ষমতা প্রকাশ পায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এই রোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় ছোটখাটো পরিবর্তন ডিমেনশিয়ার অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে শব্দজব্দ বা দাবার মতো ‘ব্রেন এক্সারসাইজ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গৃহসজ্জায় পর্যাপ্ত আলো ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা দুর্ঘটনা রোধে সহায়ক হয়। রোগীর পুরনো শখগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

ডিমেনশিয়া আক্রান্তের সেবায় নিয়োজিত স্বজনদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াও সমান জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী সেবার ফলে তৈরি হওয়া ‘কেয়ারগিভার বার্নআউট’ রোধে পরিবারের সবার মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং ধৈর্যশীল আচরণের মাধ্যমে রোগীকে একাকীত্ব থেকে মুক্ত রাখাই এই লড়াইয়ের মূল চাবিকাঠি। সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই স্মৃতিভ্রংশের এই কঠিন প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *