“হয় আলাদা থাকো, নয় নরক ভোগ করো!” স্ত্রীর হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মঘাতী স্বামী, কাঠগড়ায় স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ি

“হয় আলাদা থাকো, নয় নরক ভোগ করো!” স্ত্রীর হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মঘাতী স্বামী, কাঠগড়ায় স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ি

পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের এক চরম পরিণতি দেখল মহারাষ্ট্রের কল্যাণ এলাকা। নিজের মা ও বোনকে ছেড়ে আলাদা সংসার করার চাপে অতিষ্ঠ হয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী রবিকান্ত আদঙ্গলে। মৃত্যুর আগে লেখা একটি সুইসাইড নোটে তিনি স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মর্মান্তিক পরিণতি

একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রবিকান্ত আদঙ্গলে তার স্ত্রী রশ্মি, ১৫ বছর বয়সী সন্তান, মা এবং বোনের সঙ্গে বসবাস করতেন। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল রাত ১টার দিকে অম্বরনাথ ও বদলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় তিনি ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণাই তাকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুইসাইড নোটে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রবিকান্তের সুইসাইড নোটটি পুলিশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। সেখানে তিনি তার মৃত্যুর জন্য সরাসরি স্ত্রী রশ্মি, শাশুড়ি অরুণা এবং শাশুড়ির বোন সুনীতাকে দায়ী করেছেন। তার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল যে, যারা তার আপন হওয়ার কথা ছিল, তারাই তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা জুগিয়ে গেছে।

কেন এই আত্মহনন: উঠে এল নেপথ্যের কারণ

রবিকান্তের পরিবার এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই বিবাদের বেশ কিছু মূল কারণ উঠে এসেছে:

  • বিচ্ছিন্ন থাকার চাপ: স্ত্রী রশ্মি চাইতেন রবিকান্ত তার মা এবং বোনকে ছেড়ে আলাদা সংসার পাতুক। কিন্তু রবিকান্ত তার বৃদ্ধ মা ও বোনকে ত্যাগ করতে রাজি ছিলেন না।
  • পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অনীহা: অভিযোগ উঠেছে, রশ্মি পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করতে বা ঘরের কাজ করতে অস্বীকার করতেন। যার ফলে অনেক সময় রবিকান্তকে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হতো।
  • নিরবচ্ছিন্ন মানসিক হেনস্থা: আলাদা থাকার দাবি না মানায় স্ত্রী ও তার আত্মীয়রা মিলে রবিকান্তকে মানসিক চাপে রাখতেন, যা একসময় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতি

কল্যাণ গভর্মেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP) এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোটের ওপর ভিত্তি করে রবিকান্তের স্ত্রী, শাশুড়ি এবং শাশুড়ির বোনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৮, ৩৫২ এবং ৩(৫) ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর পাণ্ডারি কান্দে জানিয়েছেন, পারিবারিক অশান্তিই এই আত্মহত্যার প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

একঝলকে

  • নিহতের নাম: রবিকান্ত আদঙ্গলে (৪৯ বছর)।
  • ঘটনার স্থান: অম্বরনাথ ও বদলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাঝে।
  • অভিযুক্ত: স্ত্রী রশ্মি, শাশুড়ি অরুণা ও শাশুড়ির বোন সুনীতা।
  • মূল কারণ: মা-বোনকে ছেড়ে আলাদা সংসার করার জন্য চাপ এবং নিয়মিত মানসিক নির্যাতন।
  • পুলিশি ব্যবস্থা: অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *