হরমজ প্রণালীতে আটকে ২৮টি ভারতীয় জাহাজ তলানিতে এলপিজি ও তেলের সরবরাহ

হরমজ প্রণালীতে আটকে ২৮টি ভারতীয় জাহাজ তলানিতে এলপিজি ও তেলের সরবরাহ

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপর। বর্তমানে হরমজ প্রণালীতে এলপিজি এবং অপরিশোধিত তেলবাহী অন্তত ২৮টি জাহাজ আটকে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে দেশে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বন্দর ও জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানান, আটকে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী এবং ১০টি বিদেশি জাহাজ। এই জাহাজগুলো মূলত এলপিজি, এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতের দিকে আসছিল। বর্তমানে হরমজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে এগুলোকে থামিয়ে রাখা হয়েছে। সমুদ্রপথে এই অচলাবস্থার কারণে আমদানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ এই রুটটির ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৫০ শতাংশ এলএনজি এবং ৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করা হয় হরমজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে এই এলাকাটিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক বাণিজ্য চলাচল।

জাহাজ চলাচলে ঝুঁকির কারণে বিমার খরচ বা ইনসিওরেন্স প্রিমিয়াম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে এই প্রিমিয়ামের হার ছিল ০.০৪ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ০.৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এতে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। আটকে থাকা জাহাজগুলোতে ৪8৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সুরক্ষিতভাবে সরিয়ে আনাই এখন তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে আর কোনো জাহাজ ওই এলাকায় পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। এখনো পর্যন্ত মাত্র ৮টি জাহাজ নিরাপদে প্রণালী পার হতে পেরেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে রান্নার গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *