হরমুজ়ে ইরানের ত্রাস আমেরিকার ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’, বাতিলের বদলে কামব্যাক এ-১০ বিমানের

হরমুজ়ে ইরানের ত্রাস আমেরিকার ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’, বাতিলের বদলে কামব্যাক এ-১০ বিমানের

ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে হরমুজ় প্রণালীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আমেরিকার এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ যুদ্ধবিমান। কয়েক দশক পুরোনো এই বিমানটি সামরিক মহলে ‘ফ্লাইং ট্যাঙ্ক’ বা ‘বুনো শুয়োর’ নামে পরিচিত। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরানের সশস্ত্র ছোট নৌকাগুলি ধ্বংস করতে এই বিমানটি এখন মার্কিন বাহিনীর তুরুপের তাস। শত্রুপক্ষের ঘাঁটির ওপর দীর্ঘক্ষণ চক্কর কেটে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে এর জুড়ি মেলা ভার।

১৯৭২ সালে তৈরি এই বিমানটি অদ্ভুত গড়নের জন্য ‘কুৎসিত’ তকমা পেলেও এর যুদ্ধক্ষমতা অতুলনীয়। এর শক্তিশালী ‘জিএইউ-৮ অ্যাভেঞ্জার’ কামান প্রতি মিনিটে প্রায় ৩,৯০০টি গুলি ছুড়তে সক্ষম। চালকের সুরক্ষায় এতে রয়েছে টাইটানিয়ামের বর্ম। আধুনিক সুপারসনিক বা এফ-৩৫ স্টিলথ বিমানের তুলনায় এ-১০ অনেক কম উচ্চতায় উড়ে নিখুঁতভাবে শত্রুর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে, যা বর্তমান সংঘাতে একে অপরাজেয় করে তুলেছে।

মার্কিন বায়ুসেনা খরচ কমাতে এই ‘বুড়ো ঘোড়া’কে অবসরে পাঠাতে চাইলেও, বর্তমান সাফল্য সেই সিদ্ধান্তে জল ঢেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যয়বহুল আধুনিক বিমানের তুলনায় এ-১০ ব্যবহার করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর। বিশেষ করে যেখানে এফ-৩৫-এর মতো দামি বিমান প্রতিকূলতার মুখে পড়ছে, সেখানে এই পুরোনো যোদ্ধার ওপরই ভরসা রাখছে আমেরিকা। ফলে এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২-এর অবসর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে সামরিক মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *