হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের একাধিপত্য, সংকটে বিশ্ব বাণিজ্য ও ভারতের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব

হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের একাধিপত্য, সংকটে বিশ্ব বাণিজ্য ও ভারতের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব

পারস্য ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী ২১ মাইলের সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী বর্তমানে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই আন্তর্জাতিক জলপথে ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ঘোষণা করেছে তেহরান। সাগরে মাইন পুঁতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ কার্যত অচল করে দিয়েছে। সম্প্রতি গুজরাতগামী একটি থাইল্যান্ডের জাহাজসহ মোট ১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আক্রান্ত হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ় প্রণালীর উত্তর উপকূলে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই জলপথ উন্মুক্ত থাকার কথা থাকলেও, ইরান ও ওমান উভয়েরই এই সংকীর্ণ অংশে নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃত। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ওপিইসি (OPEC) দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রধান ধমনী এই পথটি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে।

ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের, কারণ দেশের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়। যদিও ভারত ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে এবং বিকল্প রুটে জোগান সচল রাখার চেষ্টা করছে, তবুও এই সংকটের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রতিবাদে তারা এই অবরোধ জারি রাখবে, যা এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর জন্য গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *