হরমুজ প্রণালীতে আকাশছোঁয়া টোল ট্যাক্স বসাল ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলি জাহাজে জারি কড়া নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর চড়া হারে টোল বা বহন কর আরোপ করল ইরান। ওমানের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় তেহরান এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে। ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনায় সবুজ সংকেত দিয়েছে। মূলত যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ভার বহন করতেই এই বিশেষ কর আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজকে এই জলপথ অতিক্রম করতে প্রায় ২০ লক্ষ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১৮ কোটি টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হতে পারে।
এই নতুন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েলের ওপর কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের কোনো জাহাজকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে, তাদের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও কড়া প্রোটোকল ও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড়সড় অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর এই জটিল পরিস্থিতির আঁচ এসে পড়েছে ভারতের ওপরও। বর্তমানে ভারতের ১৮টি পতাকাবাহী জাহাজসহ প্রায় পাঁচশ জাহাজ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। যদিও ইরান ভারতকে বন্ধু দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জাহাজ পারাপারের অনুমতি দিয়েছে, তবুও তা বাস্তবে কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ভারতে পৌঁছাতে পেরেছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ফলে ভারতীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের এই নয়া রণকৌশল কেবল যুদ্ধের খরচ তোলার উপায় নয়, বরং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের একটি বড় অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টোল আদায়ের পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর করায় আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যের খরচ যেমন বাড়বে, তেমনই সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।