হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ‘গাদির’ ত্রাস, নৌশক্তিতে ব্যাকফুটে আমেরিকা

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ‘গাদির’ ত্রাস, নৌশক্তিতে ব্যাকফুটে আমেরিকা

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বজায় রাখতে ইরান তাদের তুরুপের তাস ‘গাদির’ শ্রেণির ক্ষুদ্র সাবমেরিন মোতায়েন করেছে। অগভীর এবং সঙ্কীর্ণ এই জলপথে বড় যুদ্ধজাহাজ বা আধুনিক সাবমেরিনগুলো চলাচলে হিমশিম খেলেও, ইরানের এই নিঃশব্দ ঘাতকগুলো অনায়াসেই রেডারের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে। মাত্র ২৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সাবমেরিনগুলো সমুদ্রতলের পাথুরে খাঁজে লুকিয়ে থেকে শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডুবোজাহাজগুলোর ‘সোনার সিগনেচার’ অত্যন্ত সামান্য হওয়ায় এদের শনাক্ত করা প্রায় আসাম্ভব। ২০টিরও বেশি গাদির সাবমেরিন বর্তমানে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন রয়েছে। এগুলো থেকে ঘণ্টায় ৩৫০ কিমি বেগের ‘সুপারক্যাভিটেটিং’ টর্পেডো এবং ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়। ফলে মার্কিন নৌবহরের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছেও এটি এক বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানি নৌবাহিনী মূলত ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা আসাম যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করছে। কম খরচে নির্মিত এই ক্ষুদ্র সাবমেরিনগুলো দিয়ে তারা কোটি কোটি ডলারের শত্রু যুদ্ধজাহাজকে অকেজো করার সক্ষমতা রাখে। সুড়ঙ্গ বা সমুদ্র-গুহা থেকে পরিচালিত এই সাবমেরিনগুলো ‘সোয়ার্মিং’ বা ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিচ্ছে, যা পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *