হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নয়া চাল, ব্যারেলে এক ডলার শুল্ক এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পেমেন্ট

আমেরিকার সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিল ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে তেহরান নতুন এক ‘টোল নীতি’ কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টোল আদায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার
তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি তেল ট্যাঙ্কারকে এখন থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে শুল্ক বা টোল দিতে হবে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই অর্থ তারা মার্কিন ডলারে নেবে না। ইরান দাবি করেছে, এই টোল পরিশোধ করতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এই কৌশল নিয়েছে দেশটি।
প্রণালীতে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পণ্যবাহী জাহাজের জট
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান কেবল শুল্ক আরোপ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং প্রতিটি জাহাজে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
- রেডিও বার্তার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে যে, অনুমতি বা টোল ছাড়া যাতায়াত করলে হামলা হতে পারে।
- পারস্য উপসাগরে প্রায় ৪০০টি পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে, ফলে এলাকাটি এখন একটি বিশাল ‘পার্কিং লটে’ পরিণত হয়েছে।
- লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল আটকে থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
ইরানের এই একতরফা শুল্ক আরোপের তীব্র সমালোচনা করেছে ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী এই রুটে কোনো দেশ শুল্ক দাবি করতে পারে না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না রাখলে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই সংকটের আড়ালে আমেরিকার অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, যেখানে নেপথ্যে চিনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একঝলকে
- নতুন কর: প্রতি ব্যারেল তেলে ১ ডলার টোল আরোপ।
- পেমেন্ট মাধ্যম: শুধুমাত্র ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন বাধ্যতামূলক।
- বর্তমান অবস্থা: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ, ৪০০ জাহাজ আটকা।
- মার্কিন অবস্থান: প্রণালী না খুললে কোনো সমঝোতা নয়।
- আইনি বিতর্ক: আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব ওমান।