হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা ও বিশ্বজুড়ে গ্যাস সংকট, আটকে পড়া ১৬টি ভারতীয় জাহাজ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিলেও বন্ধু দেশ হিসেবে ভারতকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে তেহরান। সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের পতাকাবাহী মোট ৮টি জাহাজ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ওই এলাকায় এখনও আটকে থাকা ভারতের বিশাল জাহাজ বহর।
সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর কাছে ভারতের পতাকাবাহী আরও ১৬টি জাহাজ আটকা পড়ে রয়েছে। যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। এই জাহাজগুলিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি গ্যাস রয়েছে, যা দ্রুত দেশে পৌঁছানো জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ১৬টি জাহাজ কবে নাগাদ ভারতীয় বন্দরে ভিড়তে পারবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কারণ, জাহাজগুলি সময়মতো পৌঁছানোর ওপরই দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের সুরাহা নির্ভর করছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। ইরান তাদের বন্ধু দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ অনুমতি দিচ্ছে। এই তালিকায় চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতের নামও রয়েছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে এবং ইরান প্রশাসন যাতে জাহাজগুলোকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে, সেজন্য ভারতীয় জাহাজগুলিকে মূল রুট এড়িয়ে কিছুটা ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শর্টকাট পথ বর্জন করে দীর্ঘ এই বিকল্প পথে চলার কারণেই জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই জাহাজগুলোর দ্রুত প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে ভারতীয় নাবিক ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে দ্রুত সংকটমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল। দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এখন সকলের নজর হরমুজের পরিস্থিতির দিকে।