হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর ইরানের বিপুল টোল ট্যাক্স, দিতে হবে ক্রিপ্টোকায়েন্সিতে

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর ইরানের বিপুল টোল ট্যাক্স, দিতে হবে ক্রিপ্টোকায়েন্সিতে

আন্তর্জাতিক জলপথে চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল ইরান। এবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জ্বালানিবাহী জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে ‘টোল ট্যাক্স’ বা শুল্ক দিতে হবে। জানা গিয়েছে, প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের জন্য জাহাজগুলিকে এক ডলার করে কর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই লেনদেন কোনো প্রচলিত মুদ্রায় নয়, বরং বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। ইরান সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার আবহেই ইরানের এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর ইরান কঠোর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ কর্তৃপক্ষকে ইমেলের মাধ্যমে তাদের পণ্যসামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য আগেভাগে পাঠাতে হবে। ইরানের আধিকারিকরা সেই তথ্যে সন্তুষ্ট হলে এবং পণ্যের ধরন যাচাই করার পরেই মিলবে যাতায়াতের অনুমতি। এই প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ হলেও ইরান কোনো তাড়াহুড়ো করতে নারাজ।

ইরানি আধিকারিক হামিদ হোসেন জানিয়েছেন, মূলত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই পথ দিয়ে যাতে অবৈধভাবে কোনো অস্ত্র পাচার না হতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই নজরদারি। একইসঙ্গে দীর্ঘকালীন সংঘাতের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা, প্রশাসনিক ও বেসামরিক পরিকাঠামোয় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই এই সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করা হবে। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তহবিল জোগাতে হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে দেশটি।

এই নতুন নিয়মের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা পড়বে, তা নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্ট মহল। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যথাযথ তথ্য প্রদান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে শুল্ক মেটানোর পরেই কেবল জাহাজগুলো এই জলপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *