হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ও নাবিকদের অভিজ্ঞতা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহণের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে সামান্য বিশৃঙ্খলাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় ঘটাতে পারে। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সম্প্রতি এলপিজি বোঝাই দুটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলায় আপাতত বড়সড় সংকটের আশঙ্কা কাটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্চেন্ট নেভি কর্মকর্তাদের মতে, এই পথে জাহাজ পরিচালনা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। একটি জাহাজের সাথে নাবিকদের জাতীয়তা, মালিকানা এবং পণ্য আমদানিকারকসহ একাধিক দেশের স্বার্থ জড়িত থাকে। মাঝসমুদ্রে কোনো নাবিক অসুস্থ হলে বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কয়েক হাজার মাইল দূরের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আটলান্টিক বা ভারত মহাসাগরের দুর্গম অবস্থানে দ্রুত সাহায্য পাওয়া অনেক সময়ই আসাম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
নিরাপত্তার অভাব মার্চেন্ট শিপিংয়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ কার্গো জাহাজে নিজস্ব কোনো অস্ত্র বা সুরক্ষা বাহিনী থাকে না, ফলে জলদস্যু বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নাবিকরা কার্যত অসহায় থাকেন। দীর্ঘ কয়েক মাস সমুদ্রে অবস্থানের জন্য জমানো খাবার ও পরিশোধিত সমুদ্রের জলের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রতিকূল পরিবেশে রেশনিংয়ের মাধ্যমে টিকে থেকে বিশ্ববাণিজ্যের চাকা সচল রাখাই এই পেশার প্রধান বৈশিষ্ট্য।