হরমুজ প্রণালীতে তিন জাহাজে ভয়াবহ হামলা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত বুধবার ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ সংলগ্ন জলসীমায় এই হামলাগুলো ঘটে, যার ফলে একটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। যদিও ক্রু সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তবে অজ্ঞাত উৎস থেকে হওয়া এই প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই হামলার জেরে গত ৭২ ঘণ্টায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক বড় শিপিং সংস্থা তাদের পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। বর্তমানে প্রায় ১৫০টিরও বেশি জাহাজ উপকূলের কাছে নোঙর করে অপেক্ষায় রয়েছে। যুদ্ধঝুঁকির কারণে বীমা সংস্থাগুলি কভারেজ বন্ধ করে দেওয়ায় এই রুট ব্যবহারে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যেখানে তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সৌদি আরব, ইরাক ও কুয়েতের মতো দেশগুলোর তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ভারতসহ এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে পণ্য পরিবহণ করতে হলে সময় ও খরচ উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।