“হরমুজ প্রণালীতে পা দিলেই বিপদ!” ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পস (IRGC) সরাসরি মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই জলসীমায় যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপের পরিণতি হবে ভয়াবহ। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমোজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন এমন খবরের প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি এল।
উত্তেজনার নেপথ্যে ও ইরানের কড়া বার্তা
ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমোজ প্রণালীর প্রতিটি গতিবিধি তাদের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন ফুটেজ শেয়ার করে তারা দাবি করেছে যে, শত্রু পক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তাদের এই প্রণালীর ‘প্রাণঘাতী ঘূর্ণাবর্তে’ পড়তে হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, যে কোনো সামরিক জাহাজ যদি কোনো অজুহাতে এই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তাকে সরাসরি ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য, গত বুধবার থেকে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যা এখন হুমকির মুখে।
মার্কিন দাবি ও ইরানের পাল্টা অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে যে, তাদের দুটি যুদ্ধপোত হরমোজ প্রণালী অতিক্রম করে খাড়িতে মাইন অপসারণ অভিযান শুরু করেছে। তবে ইরান এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
- মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ এবং ‘ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন’ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ইরানি নৌবাহিনীর বাধায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
- তেহরান একে একটি ‘ব্যর্থ প্রচারণামূলক স্টন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
- ইরানের দাবি অনুযায়ী, কোনো মার্কিন জাহাজ সফলভাবে প্রণালীতে প্রবেশ করতে পারেনি।
কূটনৈতিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই সামরিক উত্তেজনার ঠিক আগমুহূর্তে ইসলামবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছিল, যা পক্ষান্তরে অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
হরমোজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হওয়ায় এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একঝলকে
- হরমোজ প্রণালীতে কোনো ভুল করলে চরম পরিণতির হুমকি দিয়েছে ইরান।
- মার্কিন দুটি যুদ্ধজাহাজকে পিছু হটিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি (IRGC)।
- যুক্তরাষ্ট্রের মাইন অপসারণ অভিযানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
- ইসলামবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
- যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সামরিক জাহাজ প্রবেশ করাকে শত্রুতা হিসেবে দেখছে ইরান।