হরমুজ প্রণালীতে মাইন আতঙ্ক বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচলের নির্দেশ দিল ইরান

হরমুজ প্রণালীতে মাইন আতঙ্ক বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচলের নির্দেশ দিল ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চললেও এই সমুদ্রপথে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে তেহরান। নিরাপত্তার স্বার্থে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এখন থেকে নির্দিষ্ট বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই নতুন নির্দেশিকা

ইজরায়েল ও হিজবোল্লার মধ্যে চলমান উত্তজনা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, সমুদ্রের কিছু এলাকায় মাইন পাতা থাকতে পারে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন ট্রাফিক প্যাটার্ন নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাহাজ চলাচলের নতুন রুট ও কৌশল

সমুদ্র মাইনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রবেশ ও প্রস্থান করিডর পৃথক করে দেওয়া হয়েছে:

  • প্রবেশ পথ: ওমান সাগর থেকে আসা জাহাজগুলোকে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে হবে।
  • প্রস্থান পথ: উপসাগর থেকে বের হওয়ার সময় জাহাজগুলোকে লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিক দিয়ে ওমান সাগরের পথ ধরতে হবে।

এই সুনির্দিষ্ট করিডর ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো এড়িয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

যুদ্ধবিরতি ও তেলের বাজারে প্রভাব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বাধা না দেওয়া। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এখানে সামান্য বিশৃঙ্খলাও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

টোল আদায়ের সম্ভাবনা ও কূটনৈতিক জটিলতা

দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এই পথে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ‘ট্রানজিট চার্জ’ বা টোল বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও ওমান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনও যৌথভাবে ফি আদায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *