হরমুজ প্রণালীতে মাইন আতঙ্ক ও ইরানের নতুন নৌ-নির্দেশিকা বিশ্ব বাজারে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সমুদ্র মাইনের ঝুঁকির কথা জানিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। তেহরানের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মাইনের উপস্থিতি থাকায় জাহাজগুলিকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষিতে ইরান প্রথমে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেও, পরবর্তীতে কঠোর ট্রাফিক প্যাটার্ন মেনে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। ওমান সাগর থেকে প্রবেশ এবং উপসাগর থেকে প্রস্থানের জন্য লারাক দ্বীপকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন করিডোর চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও এই মাইন আতঙ্ক বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা। যদিও রয়টার্সের সূত্রমতে শুক্রবারের মধ্যে জলপথটি আংশিক খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ইরানের শক্তিশালী রেভোলিউশনারি গার্ডস বাহিনীর কঠোর নজরদারি বহাল থাকছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই ৩৪ কিলোমিটার চওড়া সংকীর্ণ পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্রানজিট ফি বা ‘টোল’ বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ওমান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও কিছু ক্ষেত্রে ফি আদায় শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাইন আতঙ্ক, নতুন রুট এবং টোল বিতর্ক নিয়ে হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও কাটেনি। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে শুক্রবারের পরিস্থিতির ওপর, যখন এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটটি আংশিকভাবে সচল হওয়ার কথা রয়েছে।