হরমুজ প্রণালীতে মাইন আতঙ্ক সৃষ্টি করে জাহাজ চলাচলে ইরানের নতুন মহাপরিকল্পনা

বিশ্ব অর্থনীতির জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করল ইরান। আমেরিকার সঙ্গে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তেহরান এক চাঞ্চল্যকর নির্দেশিকা জারি করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর প্রধান জলপথে বর্তমানে অসংখ্য সামুদ্রিক মাইন ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে এখন থেকে ইরানের নির্ধারিত ‘বিকল্প পথ’ ব্যবহার করতে হবে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা আইআরজিসি-র মতে, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। গত মাসে যুদ্ধের উত্তেজনায় এই পথে মাইন স্থাপন করা হয়েছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে এখন স্বাভাবিক রুট ছেড়ে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত হরমুজ ও কাসিম দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মাইনের অজুহাত দেখিয়ে ইরান মূলত আন্তর্জাতিক এই জলপথের ওপর পূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরমসীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে ৮ই এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই প্রণালী অবরোধ করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন ‘নিরাপত্তা রুট’ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন কোনো সংকট তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।