হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাত কি মিটবে? আমেরিকা ও ইরানের সামনে দুই ধাপের শান্তি পরিকল্পনা
আরব দুনিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এক বড়সড় কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ থামাতে সম্প্রতি একটি দুই ধাপের শান্তি প্রস্তাব সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, এই পরিকল্পনাটি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে এবং ইতিপূর্বেই তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করা।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। জানা গিয়েছে, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখছেন। যদি এই সমঝোতা প্রাথমিক স্তরে সফল হয়, তবে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তৃত চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হতে পারে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’। এই চুক্তির অধীনে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, যার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও আটকে থাকা সম্পদ মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে প্রকাশ্যে তেহরান এখনও যথেষ্ট কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস নেভি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আগের মতো হবে না। অন্যদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হলে তবেই কূটনীতির পথে হাঁটবে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ বাড়িয়ে সতর্ক করেছেন যে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চুক্তিতে না পৌঁছালে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।