হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে মুম্বই বন্দরে তেলবাহী জাহাজ, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বড় স্বস্তি

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরব থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন অশোধিত তেল নিয়ে মুম্বই বন্দরে পৌঁছল বিশালাকায় জাহাজ ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’। বুধবার দুপুরে জওহর দ্বীপে নোঙর করার পর জাহাজটি থেকে তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা সরাসরি মহুল শোধনাগারে পাঠানো হবে। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে ভারতে আসতে সক্ষম হলো।
যাত্রাপথে ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে থাকাকালীন জাহাজটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থাগুলোর মতে, সম্ভাব্য ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতেই জাহাজটি কৌশলগতভাবে নিজের জিপিএস অবস্থান গোপন করেছিল। দীর্ঘ নীরবতার পর ৯ মার্চ পুনরায় সেটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়। এথেন্সের মালিকানাধীন এই জাহাজে ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপিন্সের মোট ২৯ জন কর্মী রয়েছেন, যারা বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
একটি জাহাজ পৌঁছলেও সমুদ্রপথে ভারতীয় বাণিজ্যের উদ্বেগ এখনই কাটছে না। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ভারতের আরও ২৮টি পণ্যবাহী জাহাজ ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় ওই জাহাজগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আধিকারিকরা।