হরমুজ প্রণালী বন্ধ: তেল উৎপাদন কমাচ্ছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো

হরমুজ প্রণালী বন্ধ: তেল উৎপাদন কমাচ্ছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল স্তব্ধ হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মজুত ভাণ্ডার দ্রুত পূর্ণ হয়ে আসায় রিয়াদ এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত এবং ইরাকও একই পথে হেঁটেছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্রতর করেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে কেবল ইরানের ট্যাঙ্কার যাতায়াত করছে। অন্যান্য দেশের সরবরাহ আটকে যাওয়ায় স্টোরেজ ট্যাঙ্কগুলো উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘সৌদি আরামকো’ লোহিত সাগরের বিকল্প বন্দর ব্যবহারের চেষ্টা করলেও পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতায় রপ্তানি ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। জেপি মর্গান চেজ-এর মতে, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে আরবের তেলের ভাণ্ডার সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও তার বড় অংশই এখন বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারছে না। হরমুজ প্রণালী দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় ঘটার পাশাপাশি ভারতসহ সারা বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থা এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *