হরমুজ প্রণালী সংকট নিরসনে ৩৫ দেশের বৈঠক, ব্রিটেনের আমন্ত্রণে যোগ দিচ্ছে ভারত

হরমুজ প্রণালী সংকট নিরসনে ৩৫ দেশের বৈঠক, ব্রিটেনের আমন্ত্রণে যোগ দিচ্ছে ভারত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বহুপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করেছে ব্রিটেন। সংঘাত-বিধ্বস্ত এই সামুদ্রিক করিডোরে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আয়োজিত এই বিশেষ আলোচনায় ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। আজ সন্ধ্যায় ব্রিটেনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল বা সশরীরে আলোচনায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত এই পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত নিরন্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রপথগুলো উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এই কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, ভারত সরকার ইরানের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো, ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই এই প্রণালী অতিক্রম করতে পারে। এই আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় এলপিজি এবং এলএনজি বহনকারী ছয়টি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের এই সমন্বয় প্রক্রিয়া বর্তমানে আরও জোরদার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে তেহরানের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ভারতীয়দের চিন্তার কোনো কারণ নেই এবং তারা নিরাপদেই রয়েছেন। ভারতকে ‘বন্ধু’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসও একই সুরে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইরান ও ওমানের ভূমিকা অগ্রগণ্য এবং মিত্র দেশগুলো সেখানে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য পথটি বর্তমানে কার্যত অচল। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর। ৩৫টি দেশের এই সম্মিলিত উদ্যোগ ও ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালীকে পুনরায় কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ বাড়ছে। ভারতের জন্য এই পথটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের সিংহভাগ জ্বালানি এই পথেই আমদানি করা হয়। ফলে ব্রিটেনের এই বৈঠক এবং ভারতের প্রতিনিধিত্ব মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *