হরিপালে মান্না পরিবারের ‘উন্নয়ন’ বনাম বিরোধীদের ‘কাটমানি’ ও ‘পরিবারতন্ত্র’ তোপ, উত্তপ্ত ভোটের ময়দান

তারকেশ্বর: ভোটের দামামা বাজতেই হরিপাল বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। শাসক দল তৃণমূল যেখানে গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ানকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে, সেখানে বিরোধীদের তুরুপের তাস স্থানীয় সমস্যা, কাটমানি এবং পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ। প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটারের এই কেন্দ্রে ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জোরকদমে চলছে প্রচার।
তৃণমূলের পাখির চোখ ১৫ বছরের পরিষেবা
তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্না ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তুলে ধরছেন গত দেড় দশকের উন্নয়নের রূপরেখা। তাঁর দাবি, প্রত্যন্ত গ্রামের ঢালাই রাস্তা থেকে শুরু করে ১৯টি নতুন সেতু, ১০০ শয্যার হাসপাতাল এবং একাধিক স্কুল তৈরি হয়েছে এই সময়ে। আগামী দিনে তাঁর লক্ষ্য, হরিপালে একটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং আধুনিক বহুমুখী হিমঘর তৈরি করা। বিশেষ করে হিন্দি মিডিয়াম স্কুলের মানোন্নয়ন এবং পৃথক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলা ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন তিনি।
বিজেপির নিশানায় দুর্নীতি ও বেহাল স্বাস্থ্য
অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী মধুমিতা ঘোষ সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, শাসক দল স্রেফ ভাতার রাজনীতি করে যুব সমাজকে পঙ্গু করে দিয়েছে। আবাস যোজনায় কাটমানি এবং কৃষকদের ফসলের সঠিক দাম না পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি প্রচারের মূল ইস্যু করেছেন। নির্বাচনে জিতলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান ৩ হাজার টাকা করার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তিনি।
আইএসএফের তোপ ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে
হরিপালের রাজনৈতিক লড়াইয়ে অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী শেখ মুজফফর আলি ওরফে মাজা। এক সময়ের তৃণমূল নেতা মুজফফর এখন বেচারাম ও করবী মান্নার কট্টর বিরোধী। তাঁর অভিযোগ, যোগ্য কর্মীদের সরিয়ে হরিপালে একছত্র ‘পরিবারতন্ত্র’ কায়েম করা হয়েছে। জলাশয় ভরাট থেকে শুরু করে পাট্টা প্রাপকদের জমি না পাওয়ার মতো বিস্ফোরক দাবি তুলে তিনি শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়াচ্ছেন। এমনকি তৃণমূলের একদল বিক্ষুব্ধ নেতা তাঁর সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে হরিপালের ভোটযুদ্ধে একদিকে যেমন উন্নয়নের দাবি, অন্যদিকে তেমনই দুর্নীতির পাল্টা অভিযোগে সরগরম হুগলির এই কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের ধারা না পরিবর্তনের ডাক— কোন দিকে রায় দেন হরিপালবাসী।