হলদিয়ায় ভোটযুদ্ধে প্রধান ইস্যু পরিযায়ী শ্রমিক, তৃণমূল-বিজেপির লড়াইয়ের মাঝে ফ্যাক্টর হতে পারে এসআইআর

পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পশহর হলদিয়ায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পারদ চড়তে শুরু করেছে। একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ বাম দুর্গ এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী এই কেন্দ্রে এবার প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ সমস্যা। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের একসময়ের গরিমা ম্লান হওয়ায় রুটি-রুজির সন্ধানে বহু মানুষ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। আসন্ন ভোটে তাঁদের ঘরে ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়াকেই মূল হাতিয়ার করছে রাজনৈতিক দলগুলি।
নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার সবথেকে বড় চমক তৃণমূল প্রার্থী তাপসী মণ্ডল। ২০১৬ সালে সিপিএম এবং ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জয়ী হওয়ার পর, এবার তিনি জোড়াফুলের প্রার্থী হিসেবে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে ময়দানে নেমেছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন বিজেপির প্রদীপ বিজলি এবং সিপিএমের অশোককুমার মাইতি। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্প পুনরুজ্জীবিত করে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে, তৃণমূল জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকারের ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর। বাম প্রার্থীর মূল ফোকাস সামগ্রিক কর্মসংস্থান ও বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার প্রতিশ্রুতি।
এই লড়াইয়ের সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট বা এসআইআর (SIR)। ভোটার তালিকা সংশোধনীর পর প্রায় ৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং অনেকের নাম বিচারাধীন থাকা নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিগত দিনে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনে জয়ী হওয়া তাপসী মণ্ডলের ক্ষেত্রে এই নতুন পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
হলদিয়ার এই ‘ব্যালট ব্যাটেলে’ শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। একদিকে তৃণমূল প্রার্থীর ঘনঘন দলবদল নিয়ে ভোটারদের একাংশের ক্ষোভ, অন্যদিকে বিজেপির আগ্রাসী প্রচার এবং বামেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই—সব মিলিয়ে হলদিয়া এখন রাজনৈতিক হটস্পট। পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভ আর এসআইআর-এর জাঁতাকলে পড়ে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয়ের শিকে ছেঁড়ে, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।