হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেন না মুখ্যসচিব, সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসিত দুষ্মন্ত নারিয়ালা

মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় এবার দেশের শীর্ষ আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। সোমবার মামলার শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকাকালীন তাঁর পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় মুখ্যসচিবকে উদ্দেশ্য করে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন করে, “আপনি কি প্রধান বিচারপতির ফোনও ধরেন না?” আমলাতন্ত্রের এই আচরণকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অত্যন্ত কড়া ভাষায় মুখ্যসচিবকে আক্রমণ করেন। তিনি জানান, মালদার ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মুখ্যসচিবের সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি জেলার পুলিশ সুপারও দায়সারা উত্তর দিয়েছেন বলে আদালতে অভিযোগ ওঠে। বিচারপতি বাগচী স্পষ্ট জানান, গোয়েন্দা রিপোর্ট ছাড়াই জেলা প্রশাসন কাজ করছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য যোগাযোগের এই বিচ্ছিন্নতাকেই দায়ী করেছে আদালত।
নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা জানান, ওইদিন দুপুর ২টো থেকে সাড়ে ৪টে পর্যন্ত তিনি বিমানে থাকায় কোনো ফোন পাননি। তিনি যে ফোন নম্বরটি ব্যবহারের কথা জানান, সেটিকে বিচারপতিরা ‘অকার্যকর’ বলে উল্লেখ করেন। বিচারপতি বাগচী টিপ্পনী কেটে বলেন, নম্বরটি এতটাই সুরক্ষিত যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ব্যক্তিও আপনাকে ফোনে পান না। আমলাদের এই একগুঁয়ে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রাজ্যে প্রশাসনিক জটিলতা বৃদ্ধি করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
মোথাবাড়ির এই ঘটনাটিকে শীর্ষ আদালত কোনো আবেগতাড়িত পদক্ষেপ নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হিসেবে অভিহিত করেছে। সুপ্রিম কোর্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে আমলাতন্ত্রের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব প্রবেশ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং উচ্চপদস্থ আমলাদের সমন্বয়হীনতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণেই একটি বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মুখ্যসচিবকে অবিলম্বে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আমলাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আমলাতন্ত্রের এই অনড় অবস্থান অন্যান্য রাজ্যেও দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে আদালত প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আজকের শুনানিতে মুখ্যসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ডিজিপি, মালদার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার।