হাইফায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা, ধ্বংসস্তূপে পরিণত আবাসিক ভবন ও হতাহত বহু

সোমবার সকালে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ৫ এপ্রিল রাতে ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইল সরাসরি একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মিসাইলের আঘাতে ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে চারপাশ ধ্বংসস্তূপ ও ধুলোর মেঘে ঢেকে যায়। এই ঘটনায় উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন এবং অন্তত নয়জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক বয়স্ক ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দুজনের আটকে থাকার আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।
হামলার পরপরই হাইফা জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডোমের প্রতিনিধিরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। ইসরায়েল ও আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত হানার পর ইরান এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হাইফার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বন্দরনগরীর আবাসিক এলাকায় এই হামলা ইরানের কঠোর প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইরানকে ‘নাৎসি শাসন’ বলে অভিহিত করেছেন এবং কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান এই হামলাকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের যথোপযুক্ত জবাব বলে দাবি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে এবং উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাইফার এই আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনা সাধারণ নাগরিকদের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে এবং আতঙ্কিত শিশুরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান ও ইসরায়েলের এই সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করে তুলেছে।