হাওড়ার গোলাবাড়িতে শ্যুটআউট, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা যুবক

হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকায় বুধবার সকালে ঘটে গেল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। জনবহুল পিলখানা এলাকায় দিনের আলোয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন সৌফিক খান নামে এক যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, বাইকে করে এসে দুই আততায়ী সৌফিকের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। একাধিক রাউন্ড গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আততায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চম্পট দেয়।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল খুনের রোমহর্ষক দৃশ্য
গোলাবাড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ কমিশনার আকাশ মেঘারিয়া জানিয়েছেন যে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই আততায়ীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে রোহিত এবং হারুন নামে দুই যুবকের নাম। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনারের মতে, পুরনো কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিবাদের জেরে এই সুপরিকল্পিত খুন করা হয়ে থাকতে পারে।
প্রোমোটিং সিন্ডিকেট নাকি তোলাবাজি নিয়ে বিবাদ
স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। তাঁদের দাবি, সৌফিকের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা ‘তোলা’ হিসেবে চাওয়া হয়েছিল। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করাতেই এই চরম পরিণতি। আবার একাংশের দাবি, এলাকায় প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই সৌফিককে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। যদিও স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরী জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই; এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিবাদের ফল।
আতঙ্কে গোলাবাড়ি এলাকা এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ
খুনের ঘটনার পর থেকেই পিলখানা ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং পদস্থ আধিকারিকরা পরিস্থিতি তদারকি করছেন। পুলিশ খতিয়ে দেখছে আততায়ীরা কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করল এবং এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে আর কোনো বড় মাথা জড়িত আছে কি না। পলাতক দুই অভিযুক্তকে ধরতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ।