হাওড়ার শ্যুটআউট কাণ্ডে বিস্ফোরক সৌগত রায়, নিজের দলের নেতাদেরই দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

হাওড়ার শ্যুটআউট কাণ্ডে বিস্ফোরক সৌগত রায়, নিজের দলের নেতাদেরই দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

হাওড়ার প্রোমোটর শফিক খান হত্যাকাণ্ডে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই আগুনেই ঘি ঢাললেন খোদ তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। দলেরই এক বিধায়কের সঙ্গে মূল অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হতেই আর চেপে থাকতে পারলেন না তিনি। সোজাসাপ্টা ভাষায় নিজের দলের নেতাদেরই আয়না দেখিয়ে সৌগত রায় জানিয়ে দিলেন, “বাহুবলীদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরলে ভবিষ্যতে চরম দুর্ভোগ কপালে আছে।”

নিজের দলের বিরুদ্ধেই কেন ফুঁসে উঠলেন বর্ষীয়ান সাংসদ?

হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকে চেপে ঘুরতে দেখা গিয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পান্ডা হারুন খানকে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। এই প্রসঙ্গেই সরব হয়ে সৌগত রায় বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলছে, এই বাহুবলীরা ভোটের সময় কোনো কাজে আসে না। বরং যে নেতার পাশে এদের দেখা যায়, সাধারণ মানুষ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি নিজে কখনও কোনো অপরাধীকে নিজের গাড়িতে তোলেন না বা তাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান না।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় আশঙ্কার কথা শোনালেন সৌগত

আসন্ন নির্বাচনের আগে কলকাতা ও হাওড়া শিল্পাঞ্চলে বাড়তে থাকা অপরাধমূলক কাজকর্ম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ নেতা। তার মতে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যদি এখনই অপরাধী চক্রের সঙ্গে আপস করা বন্ধ না করেন, তবে সাধারণ মানুষকে এর জন্য চরম খেসারত দিতে হবে। একদিকে যখন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিরোধীরা সরব, ঠিক সেই সময় সৌগত রায়ের এই মন্তব্য দলের অন্দরের অস্বস্তি যেমন বাড়িয়েছে, তেমনই স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার লড়াইকেও উসকে দিয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযুক্ত হারুন খান এখনও ফেরার, অথচ বিধায়কের সঙ্গে তার সখ্যতার প্রমাণ প্রকাশ্যে আসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ‘শাসকদলের ঘনিষ্ঠ’ হওয়ার সুবাদেই মূল আসামীকে ধরা হচ্ছে না। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে সৌগত রায়ের এই ‘সতর্কবার্তা’ শেষ পর্যন্ত দলের অন্দরে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *