হাওড়া জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে তৃণমূল-বাম সংঘর্ষ, মনোনয়ন ঘিরে রণক্ষেত্র চত্বর
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সোমবার হাওড়া জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়েছে বাম কর্মীরা। এমনকি শাসকদলের মহিলা সমর্থকদেরও ধাক্কা দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বাম সমর্থকদের একটি মিছিল জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে পৌঁছালে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বাম সমর্থকরা মিছিল করে আসার সময় ডিএম অফিসের সামনে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যেরও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শুরু হয় হাতাহাতি। তৃণমূল কর্মী শেখ আব্দুল সালামের দাবি, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অবমাননা করা হয়েছে।
মহিলা সমর্থকদের অভিযোগ আরও গুরুতর। ডোমজুড়ের তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতির অনুগামী পূর্ণিমা আইচ জানান, স্লোগানের প্রতিবাদ করতে গেলে বাম কর্মীরা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং শারীরিক নিগ্রহ করেন। পুলিশের সামনেই দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চললেও হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনোনয়ন কেন্দ্রের ভেতরে পাঁচজনের বেশি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
একই দিনে আলিপুরেও বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুলিশের সাথে বিজেপি কর্মীদের তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং পরে তৃণমূল-বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে স্লোগানযুদ্ধ ও ধাক্কাধাক্কির খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে শহর থেকে জেলা, মনোনয়ন পর্বের শুরুতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার জেরে ওইসব এলাকায় কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করেছে প্রশাসন।