হায়দরাবাদের কোকিল ও গদ্দার ভাইদের ভোট কাটার খেলা চলছে মালদায়, মমতার বিস্ফোরক তোপ

হায়দরাবাদের কোকিল ও গদ্দার ভাইদের ভোট কাটার খেলা চলছে মালদায়, মমতার বিস্ফোরক তোপ

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদায় ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদার জনসভা থেকে সরাসরি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম এবং বিজেপির আঁতাত নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করতে এবং ভোট কাটতে ‘হায়দরাবাদ থেকে কোকিল’ পাঠানো হয়েছে, যাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে স্থানীয় কিছু ‘গদ্দার’।

সম্প্রতি মালদার কালিয়াচকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার নেপথ্যে বহিরাগতদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, স্থানীয় সাধারণ মানুষ এই ঘটনার জন্য দায়ী নন। বরং হায়দরাবাদ থেকে আসা কিছু সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং বহিরাগতরা মিলে বিচারকদের আটকে রেখে বাংলার সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তদের সিআইডি ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কালিয়াচকের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসন তাঁর নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে। কংগ্রেসকে এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করে তিনি বলেন, বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মালদার সভা থেকে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানান, ডিটেনশন ক্যাম্প রুখতে হলে তৃণমূলের সঙ্গে থাকা জরুরি। বিজেপিকে বিদায় করার জন্য একটি ভোটও যাতে অন্য কোথাও না যায়, সেই আবেদন জানান তিনি।

এদিনের সভা থেকে দলীয় কর্মীদের বিশেষ বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিএলএ এজেন্ট থেকে শুরু করে মিছিলে থাকা সাধারণ কর্মীরাই দলের আসল সম্পদ। তাঁর মতে, অহংকারই মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। নিজেকে ‘মাটির কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সেবার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক পয়সাও বেতন নেন না। সাধারণ জীবনযাপনের মাধ্যমেই তিনি মানুষের পাশে থাকতে চান।

নির্বাচনী ময়দানে বিরোধী জোটকে ‘কাকের ঘরে কোকিলের ডিম’ পাড়ার সঙ্গে তুলনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আম বা আমসত্ত্ব দিলেও ভোট যেন ভুলেও বিরোধীদের বাক্সে না পড়ে। বাংলার এই নির্বাচনকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি দাবি করেন, বিজেপি শীঘ্রই বিদায় নেবে এবং বাংলায় ঘাসফুল শিবিরের জয় নিশ্চিত। কর্মীদের প্রতি অগাধ আস্থা প্রকাশ করে তিনি তাঁদের লড়াইয়ের ময়দান না ছাড়ার আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *