হারমুজ প্রণালীতে ইরানের নয়া টোল, আতঙ্ক বিশ্ব বাজারে অশনি সংকেত দেখছেন বিশ্লেষকরা

হারমুজ প্রণালীতে ইরানের নয়া টোল, আতঙ্ক বিশ্ব বাজারে অশনি সংকেত দেখছেন বিশ্লেষকরা

দশকব্যাপী চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিয়ে আসছে নতুন সংকট। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে যুদ্ধের পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হারমুজ প্রণালী’-তে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে গেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরোক্ষ অবদানেই এই বিশ্বখ্যাত জলপথে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই হারমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। এমনকি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তারা এই আন্তর্জাতিক জলপথে নাকা চলাচলের ওপর ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানের এই টোল ব্যবস্থা বা ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এ আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমুদ্রের মাইন থেকে সুরক্ষা পেতে বিদেশি জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থান পথ অনুসরণ করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা ও বিমা কো ম্পা নিগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের মতো জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য এই পথটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে পরিচিত। যদি ইরান এই জলপথ সম্পূর্ণ নিজেদের কবজায় নেয়, তবে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে বিশ্ব অর্থনীতিতে। শুক্রবার ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই উত্তেজনার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *