হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোহন ভট্টাচার্য, শুটিং সেটে নিরাপত্তা ও ‘রাহুল দা’-র জন্য চাইলেন বিচার

টলিউডে কর্মবিরতির আবহে ফের শিরোনামে অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য। বর্তমানে হাসপাতালের শয্যায় বন্দি অভিনেতা সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে ‘জাস্টিস ফর রাহুল দা’ দাবি তুলেছেন। ২০১২ সালে শুটিং চলাকালীন দার্জিলিং মেলের ধাক্কায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, সেই সময় কোনো অনুমতি ছাড়াই শুটিং চলছিল। সেই দুর্ঘটনার ক্ষত আজও তাঁর হাতে বর্তমান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুটিং করাকে তথাকথিত ‘ডেডিকেশন’ হিসেবে তুলে ধরার যে সংস্কৃতি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রোহন।
নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রোহন জানান, পথকুকুরদের উদ্ধার ও চিকিৎসা করতে গিয়ে একটি ছোট দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। তবে তিনি এখন বিপদমুক্ত এবং দ্রুতই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন। কর্মবিরতি ও টেকনিশিয়ান স্টুডিওর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই তিনি সহকর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা স্পষ্ট জানান, বড় তারকাদের উদাহরণ টেনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করা মোটেই কাম্য নয়, কারণ কাজের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একই ঘটনায় অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র প্রাণরক্ষা পেলেও আউটডোর শুটিংয়ে কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। রাহুলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু টলিউডকে নাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলস্বরূপ ৭ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ফেডারেশন ও ইম্পা সহ একাধিক সংগঠন।
বর্তমানে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, প্রযোজক এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক চলছে। আউটডোর শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া বিধিমালা প্রণয়নের দাবি উঠেছে সর্বস্তর থেকে। যদি এই বৈঠকে সন্তোষজনক সমাধান সূত্র না বেরোয়, তবে টলিউডের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণ যাতে বৃথা না যায় এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অভিনেতাকে যেন এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, সেই বার্তাই এখন টলিউডের মূল দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।