হিমন্তের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে পবন খেরার বিস্ফোরক দাবি ঘিরে আসামের রাজনীতিতে তুঙ্গে উত্তেজনা

হিমন্তের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে পবন খেরার বিস্ফোরক দাবি ঘিরে অসমের রাজনীতিতে তুঙ্গে উত্তেজনা

আসাম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর মুখে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশি সম্পত্তি গোপনের গুরুতর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। দলের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে দুবাই ও আমেরিকায় কোটি কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তি রয়েছে, যা নির্বাচনী হলফনামায় জানানো হয়নি। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পবন খেরা চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান, রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার নামে দুবাই ও আমেরিকার ওয়াইমিংয়ে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। কংগ্রেসের প্রশ্ন, যদি এই সম্পত্তি বৈধ হয় তবে কেন তা নির্বাচন কমিশনের কাছে গোপন রাখা হলো? খেরা আরও সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, আগামী দিনে তিনি এই সংক্রান্ত আরও জোরালো নথিপত্র জনসমক্ষে আনবেন।

সম্পত্তির পাশাপাশি নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। পবন খেরা কিছু নথি দেখিয়ে দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ হওয়ায়, এই অভিযোগ সত্য হলে মুখ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস যেসব নথি দেখিয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের ‘ফটোশপ’ করা এবং জালিয়াতিতে ভরা। তিনি উল্লেখ করেন, নথিতে পদবির বানান ভুল রয়েছে এবং মিশরের পাসপোর্টে দেশটির নামের বানান ভুল লেখা হয়েছে। কিউআর কোড ও ছবির গুণমানও আসল নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী পবন খেরার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মাও সমাজমাধ্যমে একে এআই এবং ফটোশপের অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছেন। আসামের ৫২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

আসামের ১২৬টি আসনে আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। তার ঠিক আগে ‘পাসপোর্ট ও প্রপার্টি’ সংক্রান্ত এই বিতর্ক ভোট ময়দানে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একে কংগ্রেসের হতাশা বলে বর্ণনা করলেও, গৌরব গগৈ ও রাহুল গান্ধীর মতো কংগ্রেস নেতারা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে এই রাজনৈতিক চাপানউতোর জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *