“হিসাব হবেই, এবার পাততাড়ি গোটান!” মমতাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি মোদীর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে এবার মূল লড়াই শুধু ক্ষমতার নয়, বরং রাজনৈতিক ভাষ্যের। শনিবার বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি ঘোষণা করেন যে, এবার যাবতীয় কাজের হিসাব নেওয়া হবে এবং বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং নারীর নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানায় বাংলার মহান ঐতিহ্যকে অনগ্রসরতার কলঙ্কে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। জনতাকে ‘মোদীর গ্যারান্টি’র আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বাংলার চিত্র আমূল বদলে যাবে।
অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি
বাংলার অনুপ্রবেশ সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও এখন অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বের করে দিচ্ছে। যারা জাল নথিপত্র তৈরি করে বাংলার গরিব মানুষের রেশন ও টাকা লুট করছে, তাদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট জানান, অনুপ্রবেশকারীদের এবার পাট চুকানোর সময় এসেছে।
সিএএ এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি
মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশ্যে মোদী বলেন, আপনারা এখানে তৃণমূলের দয়ায় নেই, বরং সংবিধানের আশ্রয়ে আছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর সিএএ (CAA) এর অধীনে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করা হবে।
স্বাস্থ্য এবং মহিলা নিরাপত্তায় বড় ঘোষণা
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কয়েকটি বড় প্রতিশ্রুতি দেন:
- আয়ুষ্মান ভারত: ৪ মে-র পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প কার্যকর করা হবে। এতে গরিব মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প: মহিলাদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
- নিরাপত্তা: মোদী আশ্বাস দেন যে, বিজেপি শাসনে বাংলার মেয়েরা নির্ভয়ে রাতে চলাচল করতে পারবে এবং সিন্ডিকেট রাজ চিরতরে বন্ধ হবে।
কৃষক ও যুবকদের জন্য ভিশন ২০২৬
বর্ধমানকে ‘ধানের গোলা’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন যে, সঠিক ব্যবস্থার অভাবে এখানে আলু পচে যাচ্ছে এবং কৃষকরা বিপন্ন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কৃষকরা বছরে ৯০০০ টাকা করে সম্মান নিধি পাবেন। পাশাপাশি যুবকদের জন্য সরকারি চাকরিতে বয়সের ছাড় এবং শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আশ্বাস দেন তিনি।
রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা ও কমিশনের প্রশংসা
মুর্শিদাবাদের সহিংসতায় প্রাণ হারানো চন্দন দাস ও তাঁর পিতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, অন্যান্য রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এবার বাংলাতেও ‘ভয়’ কাটিয়ে ‘ভরসা’র জয় হবে।
একঝলকে
- মমতা সরকারের ১৫ বছরের দুর্নীতির পূর্ণ হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারি।
- অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথিপত্র এবং রেশনের টাকা চুরির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথম ক্যাবিনেটেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর অঙ্গীকার।
- নারীদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা সহায়তা এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি।
- কৃষকদের জন্য বার্ষিক ৯০০০ টাকা কিষাণ সম্মান নিধি এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের রোডম্যাপ।