হুগলিতে চরমে রাজনৈতিক সংঘাত, প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে কালি লেপন ও বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

হুগলিতে চরমে রাজনৈতিক সংঘাত, প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে কালি লেপন ও বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

হুগলির তারকেশ্বরে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক ও বিরোধী শিবিরের দ্বন্দ্বে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। পাঁচ নম্বর মণ্ডলের ২০২ নম্বর বুথ এলাকায় জনসংযোগে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান এক নজিরবিহীন ঘটনার সম্মুখীন হন। অভিযোগ, এলাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবিতে কাদা ও কালি লেপে সেটিকে অবমাননাকর অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের দাবি, এটি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার আসাম্মান নয়, বরং দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদের অবমাননা। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে কলুষিত করতেই এই কাজ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে জানানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তারকেশ্বরের চাউল পট্টি এলাকায় বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের প্রচারকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের একটি মিছিল চলাকালীন বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালানো হয়। ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত বিদায়ী বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের উপস্থিতিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সন্তু পানের গাড়ি ঘিরে ধরে ভাঙচুর চালায় এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রার্থী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপির উস্কানিমূলক আচরণের কারণেই এই আকস্মিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, হুগলির এই শিল্পাঞ্চলে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গণতান্ত্রিক উৎসবে এই ধরনের হিংসা কাম্য নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চরম সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *