“হৃদয়ে কাবা, চোখে মদীনা!” সায়েণীর কণ্ঠে এই গান ঘিরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

“হৃদয়ে কাবা, চোখে মদীনা!” সায়েণীর কণ্ঠে এই গান ঘিরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণ সাংসদ সায়নী ঘোষ। বিভিন্ন জনসভায় তাঁর গাওয়া একটি ইসলামি সংগীতের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এই ঘটনাটি ধর্মীয় মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক কৌশলের এক নতুন সমীকরণ সামনে নিয়ে এসেছে।

সায়নী ঘোষের নতুন কৌশল ও ভাইরাল গান

পেশায় অভিনেত্রী এবং বর্তমানে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে তৃণমূলের বিভিন্ন জনসভায় “হৃদয় মাঝে কাবা আর নয়নে মদীনা” গানটি গাইতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই গানের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের আবেগ স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ‘মমতার ক্ষমতা’ স্লোগান দিয়েও তিনি নজর কেড়েছিলেন। এবার নিজের সংগীত প্রতিভাকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।

বিজেপির অভিযোগ ও তুষ্টিকরণ রাজনীতি

সায়নী ঘোষের এই গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি তৃণমূলের চিরাচরিত ‘মুসলিম তুষ্টিকরণ’ রাজনীতিরই একটি অংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির সমর্থকরা প্রশ্ন তুলছেন যে, বাংলা যেখানে মা কালী ও দুর্গার আরাধনার জন্য পরিচিত, সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি কেন মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রচার চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগিয়ে ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করাই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্কিত প্রেক্ষাপট

২০২১ সালে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে পরাজিত হলেও, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর থেকে বিশাল জয় পান সায়নী ঘোষ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি হিসেবে তৃণমূলের যুব সংগঠনের সভানেত্রীর দায়িত্ব সামলানো সায়নী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার নিষ্কণ্টক নয়। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ইডি-র দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। এই সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে বর্তমানে নির্বাচনী মঞ্চে তাঁর নতুন গানই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সম্ভাব্য প্রভাব

নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের ধর্মীয় সংগীতের ব্যবহার ভোটারদের ওপর দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন এটি সংখ্যালঘু ভোট সংহত করতে সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে সংখ্যাগুরু ভোটের মেরুকরণের পথও প্রশস্ত করতে পারে। সায়নী ঘোষের এই গানের রিল এবং ভিডিও বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে, যা রাজনৈতিক লড়াইকে মাঠ থেকে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে পৌঁছে দিয়েছে।

একঝলকে

  • প্রচারের মঞ্চে সায়নী ঘোষের গাওয়া ইসলামি সংগীত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
  • বিশেষ করে মুসলিম প্রধান নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • বিজেপি এই ঘটনাকে ‘মুসলিম তুষ্টিকরণ’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছে।
  • সায়নী ঘোষ তৃণমূলের যুব সভানেত্রী ও বর্তমান যাদবপুর লোকসভার সাংসদ।
  • নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী-নেত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *